Today October 24, 2026, 08:24 PM

অপরাধী শিক্ষককে বাঁচাতে সত্য গোপন করলে মাদরাসা ব্যবস্থার ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ

Published: October 24, 2026, 08:24 PM
অপরাধী শিক্ষককে বাঁচাতে সত্য গোপন করলে মাদরাসা ব্যবস্থার ক্ষতি হবে: শায়খ আহমাদুল্লাহ

মাদরাসায় সংঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের রক্ষার চেষ্টা এবং সত্য গোপন করা হলে পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইসলামি আলোচক ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাঁর ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি মাদরাসায় অপরাধ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

অপরাধ আড়াল না করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু অনুমোদনহীন ও মানহীন বেসরকারি মাদরাসায় সংঘটিত অনিয়ম ও অপরাধের নেতিবাচক প্রভাব পুরো মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়ছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মাদরাসা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সতর্ক করেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করতে গিয়ে সত্য গোপন করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও সমাধানের পরিবর্তে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

মাদরাসা বোর্ড ও শীর্ষ আলেমদের উদ্যোগের প্রয়োজন

মাদরাসায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে তিনি আগেই ৩০ জনের বেশি শীর্ষ আলেমের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পাঠিয়েছিলেন বলে জানান। পরে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে সেসব প্রস্তাব প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলো বহু এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীর আশ্রয়স্থল এবং ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও মানুষের আস্থা রক্ষায় মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এবং শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

নিজের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট পরিচালনা পর্ষদের দাপ্তরিক দায়িত্বে না থাকায় তাঁর ভূমিকা মূলত লেখালেখি, বক্তব্য ও জনসচেতনতা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ।

অভিযোগ প্রমাণের আগে শাস্তি নয়, আইন নিজের হাতে নেওয়াও নয়

টঙ্গীর সাম্প্রতিক একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে শায়খ আহমাদুল্লাহ অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং তার ওপর হামলা বা হেনস্তা করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে আগাম বিচার বা জনতার ক্ষোভের কারণে ওই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি হতে পারে। এমন ক্ষতি পরে পূরণ করা কঠিন।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ধর্ম অবমাননাসহ কোনো ইস্যুতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ এবং ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

ন্যায়বিচার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় জোর

শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—মাদরাসায় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ আড়াল না করা এবং যথাযথ তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করা।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস ও দৈনিক ইত্তেফাকের ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদন।